আইন জ্ঞানঃ চতুর্থ পর্ব

বিচারের অধিকারঃ  অপরাধ হয়েছে কি হয়নি বা হলে তার শাস্তি কি হবে, তা নির্ধারন করার অধিকার কেবলমাত্র রাষ্ট্র কতৃক সেই অপরাধ নিমিত্তে নিয়োজিত বিচারকের বা ব্যক্তির, তারা ব্যাতীত বিচার করা এবং শাস্তি দেবার এই অধিকার পুলিশের নেই, মহল্লার মুরুব্বীদের নেই, নেতাদের তো অবশ্যই নেই, এমনকি সব বিচারকেরও অধিকার নেই সব কিছু বিচার করার, বুঝিয়ে বলি, বিচারকদের আলাদা আলাদা বিচারিক অধিক্ষেত্র থাকে, একজন বিচারক সব কিছুর বিচার করতে পারেন না, তাদের সেই অধিকার থাকে না। যেমন ধরুন কোন দলিল জাল কিনা সে ব্যাপারে রায় দেবার অধিকার যে বিচারকের থাকে, কাউকে ফাঁসী দেবার অধিকার সাধারণতঃ তাঁর থাকেনা।

সামাজিক বিচারঃ  ‘সামাজিক বিচার’ বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব বা স্বীকৃতি নেই। ‘সামাজিক বিচার’ আর মোরগের ডিম একই জিনিস, কিনতে পারবেন, খেতে পারবেন না।

পুলিশের সীমাবদ্ধতাঃ  পুলিশের অধিকার নেই পাওনাদারের হয়ে দেনাদারকে চাপ দেয়ার, আরও অধিকার নেই আদালতের আদেশ ব্যাতিত কোন ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করার। জেনে রাখা ভাল, উপযুক্ত কাগজপত্র যদি না থাকে আর দেনাদার-ভাড়াটিয়া যদি ঘাউড়া কিছিমের হয়, তাহলে সে পুলিশ এবং আপনাকে, দুই পক্ষকেই ‘হাতে হারিকেন’ ধরিয়ে দেবে।

লিখিত চুক্তির প্রয়োজনীয়তাঃ সকল প্রকার ধাঁর-দেনা এবং চুক্তি লিখিত ভাবে সম্পাদন করুন এবং নিজের কাছে সেটার একটি কপি রাখুন, মনে রাখা ভাল বিরোধ কোর্ট পর্যন্ত গড়ালে কোন লিখিত চুক্তি আছে কিনা কোর্ট সবার আগে সেটাই জানতে চাইবে। সঠিক দামের নন জুডিসীয়াল পেপারে চুক্তিটি লেখা হয়েছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখুন, এটা না হলে কিন্তু আবার ‘বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেঁড়ো’ অবস্থা হবে। জেনে রাখা ভাল কোন কোন চুক্তি বলবত করার জন্য তা অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হয় (যেমন জমি বিক্রয় চুক্তি), যদি এমন কোন চুক্তি আপনি রেজিস্ট্রি না করে ফেলে রাখেন আর পরে তা নিয়ে ঝামেলায় পরেন, তাহলে করার তেমন কিছু আর থাকবে না।

কোর্টের বিচারিক আচরনঃ  কোর্টের ‘চক্ষুলজ্জা’ বলে কোন কিছু নেই। আপনি কী বাপের বিরুদ্ধে মামলা করছেন নাকি যার সাথে আপনার ভিডিও বাজারে আছে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করছেন তা কোর্টের বিবেচ্য নয়, কোর্ট কেবল দেখবে আপনার দাবী আইনের চোখে গ্রহণযোগ্য কিনা। কাজেই কারো বিরুদ্ধে কোন দাবী থাকলে তথাকথিত চক্ষুলজ্জার ভয়ে চেপে যাবেন না। বিশ্বাস করুন আপনার চেয়ে অনেক বিচিত্রতর সমস্যা নিয়ে কোর্ট নিত্য কাজ করে।

কোর্টের ক্ষমতাঃ  কোর্ট বিচার করে আইনী যুক্তিতর্কের মাধ্যমে, আর কোর্টের পেছনে থাকে একটি রাষ্ট্রের ক্ষমতা, এ কারণেই এলাকায় কেউ যত হুংকারই দিক না কেন, কোর্টের সামনে গেলে দেখবেন ঠিকই মেয়াও মেয়াও করছে।

© KWH

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *