আইন জ্ঞানঃ তৃতীয় পর্ব

থানার এখতিয়ারঃ কোন থানার মূল কাজগুলি হচ্ছে সেই থানার আওতাধীন এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা, এজাহার-জিডি নেয়া, অপরাধের তদন্ত করা, আসামী গ্রেফতার করা, জেরা করা আর ধৃত আসামীদের কোর্টে চালান দেয়া। আপনার বেয়াড়া ভাড়াটে উঠানো বা পাওনা টাকা আদায় করে দেয়া পুলিশদের দায়িত্বের মধ্যে পড়েনা। কোন জমির কে মালিক এটা নির্ধারন করার বা ‘রায়’ দেয়ার কোন অধিকার থানার নেই। অতএব কোন থানা থেকে যদি আপনাকে জমির মালিকানা নির্ধারনের জন্য কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলে, নির্দ্বিধায় তা উপেক্ষা করুন, থানা থেকে এ ব্যাপারে ফোন আসলে জানিয়ে দিন আপনার ‘উকিল সাহেব’ আপনাকে থানায় যেতে মানা করেছেন, পরে তিনি (উকিল সাহেব) এ ব্যাপারে কোর্টের আদেশ নিয়ে থানার সাথে যোগাযোগ করবেন, এভাবে উত্তর দিলে জোকের (আমি জোকের তেলের কথা বলছি না) মুখে নুন দিলে কি হয় তার কিছুটা আন্দাজ পাবেন

প্রতিকার চিনতে শিখুনঃ আপনি যদি অপরাধীর জেল চান চান তাহলে ক্রিমিনাল কেস করবেন, আর যদি আর্থিক প্রতিকার চান তাহলে করবেন সিভিল কেস। অনেকে এটা বুঝতে পারেনা দেখে অনেক বছর কেস চালানোর পর টের পান ‘ইহা উহা নহে’, আপনি আসলে কি চান সেটা কেস করার আগেই উকিলকে পরিস্কার করে খুলে বলুন। ক্রিমিনাল কেসের চেয়ে যে সিভিল কেসে সময় বেশী নেয় এটা জেনে রাখা ভাল।

পুলিশের কাছে কনফেশনঃ বাংলাদেশে আইনে কোন ব্যাক্তি পুলিশের নিকট বা রিমান্ডে থাকা অবস্থায় কোন কনফেশন করলে তা তার বিরুদ্ধে ব্যাবহার করা যায়না। রাস্তা থেকে আপনাকে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে যেয়ে কোন অসৎ পুলিশ অফিসার যদি আপনাকে কোন অপরাধের কনফেশন করতে বলে, বিনা দ্বিধায় কনফেশন  করতে পারেন (হায়েনা সুলভ হাসি দেয়াটা অপশনাল), তবে আসলেই অপরাধ না করে থাকলে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে আবার কনফেশন করতে যাবেন না, আইনের চোখে কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট কনফেশন গ্রহনযোগ্য, টেকনিক্যালি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেয়া কনফেশনও প্রত্যাহারযোগ্য তবে তার চেয়ে টিউবের মধ্যে টুথপেস্ট ফেরত পাঠানো অনেক সহজ।

জেনে রাখা ভালঃ এই আইনের একটা ব্যাতিক্রম আছে, আপনার দেয়া কনফেশন অনুযায়ী যদি পুলিশ কোন কিছু উদ্ধার করে থাকে, তাহলে সেটা আপনার বিরুদ্ধে ব্যাবহার করা যাবে। দবির পুলিশের কাছে কনফেশন দিল সবিরকে হত্যা করে সে ছুরিটা ড্রেনে ফেলে দিয়েছে, পুলিশ সেটা ড্রেন থেকে উদ্ধার করল, পুলিশের কাছে দেয়া দবিরের কনফেশন গ্রহনযোগ্য।

সৎ চরিত্রের দামঃ কোন ক্রিমিনাল কেসে আভিযুক্তের সৎচরিত্র (যদি থাকে) তার জন্য প্লাস পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। যদি এমন কোন ব্যাক্তির বিরুদ্ধে এমন কোন অভিযোগ আসে যাকে সবাই সৎচরিত্র হিসেবে চেনে বা মনে করে, তবে তাকে অপরাধী হিসেবে শাস্তি দেবার আগে কোর্ট সাধারন মানের প্রমানের চেয়ে নিরেট প্রমান চাইতে পারেন।

ধর্ষিতার চরিত্রঃ কোন মেয়ে যদি ধর্ষিতা হয় তাহলে তার চরিত্র কেমন ছিল সেটা আইনের চোখে মোটেই বিবেচ্য নয়। এমনকি এক জন পতিতারও অধিকার আছে ধর্ষিতা না হবার। বয়ফ্রেন্ডের সাথে ‘একান্ত সময়’ কাটানোর পর তার বন্ধুদের হাতে যদি ধর্ষিতা হন তার মানে এই না যে আপনার আইনগত কোন অধিকার নেই, আপনি ধর্ষনের আগে বয়ফ্রেন্ডের সাথে কি করছিলেন, এর আগে তার সাথে কতবার বিছানায় গেছেন, বাজারে আপনার কোন ভিডিও আছে কিনা, আপনি বয়ফ্রেন্ডের কাছ থেকে আগে কোন উপহার নিয়েছেন কিনা, ধর্ষনের অপরাধ বিবেচনা করার সময় সেসব কিছুই আইনের কাছে বিবেচ্য বিষয় নয়, ধর্ষনের অপরাধ বিবেচনা করার সময় কেউ আপনার সাথে আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে দৈহিক সম্পর্ক করেছে কিনা সেটাই কোর্টের কাছে একমাত্র বিবেচ্য।

তবে জেনে রাখা ভাল আক্ষরিক ভাবেই কোন মেয়ে যদি ‘যৌন কর্মী’ হয় তাহলে রেপ কেস প্রমান করতে সাধারন মেয়েদের চেয়ে তাকে অনেক বেশী বেগ পেতে হবে। রেপ কেসে ভিকটিমের সামাজিক এবং শিক্ষাগত অবস্থান যত উচু হয়, কোর্ট তার কথা তত বেশী বিশ্বাস করে।

© KWH

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *