আইন জ্ঞানঃ দ্বিতীয় পর্ব

উইল-অসিয়তঃ কাউকে কোন জমি অসিয়ত বা উইল করে দিলেই গ্রহীতা সেই জমির মালিক হয়ে যায়না, উইল/অসিয়ত কেবল দলিল দাতা মারা যাবার পরেই কার্য্যকর হয়। দলিল দাতা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই জমি নিয়ে যা খুশী তাই করতে পারে। মোদ্দা কথায় বলতে গেলে কেউ তার সব জমি স্ত্রী, ছেলে-মেয়েদের নামে উইল-অসিয়ত করে দিয়ে যেয়ে পরে অন্য কাউকে আবার সেই জমিই হেবা করে দিয়ে যেতে পারে, আইনে তাতে কোন বাধা নেই।

সম্পত্তিতে মেয়েদের ভাগঃ সম্পত্তিতে মেয়েদের ভাগ পাওয়া কারো দয়া-দাক্ষিন্যের উপর নির্ভর করে না,  কোর্টে পার্টিশন মামলা দায়ের করে মেয়েরা খুব সহজেই নিজ জমি উদ্ধার করে নিতে পারেন।

বিনিয়োগ ও ব্যাবসায় লাভঃ কেউ আপনাকে তার ব্যাবসাতে বিনিয়োগ করতে বলছে? লাভের অংশ অবিশ্বাস্য? নিশ্চিত থাকুন ঠকতে যাচ্ছেন, ব্যাবসার ধরন বিবেচনা করুন, লাভের পরিমান হিসাব করুন, যদি দেখেন ব্যাঙ্কের চেয়ে কম সময়ে ব্যাঙ্কের চেয়ে বেশী সুদ/লাভ দিচ্ছে, তাহলে বুঝে নিবেন প্রতারিত হবার বিপুল সম্ভাবনা আছে। তারপরও যদি আপনাদের ইচ্ছা করে বিনিয়োগ করতে বা আপনার যদি ব্যাবসাটা জেনুইন বলে মনে হয়, তাহলে কত টাকা বিনিয়োগ করছেন, লভ্যাংশ কত হবে, কবে নাগাদ টাকা ফেরত পাবেন, ফেরত চাওয়ার কত দিনের মধ্যে আপনার দাবী পরিশোধ করা হবে তা ভাল মতে লিখে-পড়ে নিন।

টাকা ধারঃ টাকা ধার নিয়ে সেটা ফেরত না দেয়া বাঙ্গালীর আবহমান  ঐতিহ্যের অংশ, কাউকে টাকা ধার দেবার সময় কথাটা অবশ্যই মনে রাখবেন। ধার চুক্তিতে অবশ্যই একজন গ্যারান্টর রাখবেন। মনে রাখলে ভ্লা করবেন  আপনার টাকা উদ্ধার করে দেয়া পুলিশী দায়িত্বের বা অধিকারের মধ্যে পড়েনা।

প্রবাসীদের পাঠানো টাকাঃ প্রবাসীরা বিদেশ থেকে যে টাকা পাঠান সেই টাকা দিয়ে যদি সবার নামে জমি কেনা হয় তাহলে সেই জমির মালিক যাদের নামে কেনা হচ্ছে তারা সবাই হবেন, প্রবাসী একা হবেন না, বর্তমানে বেনামে সম্পত্তি কেনা যায়না। আরো জেনে রাখা ভাল, প্রবাসীদের পাঠানো টাকা বিনিয়োগ না করে যদি বাবা-মারা সেই টাকা খেয়ে ফেলেন, তাহলে তা প্রবাসীদের বাবা-মার সম্পত্তির উপরে বাড়তি কোন আইনগত অধিকার দেয় না।

জোর করে জমি লিখিয়ে নেয়াঃ কাউকে দিয়ে সাদা কাগজে এমনকি নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে সাইন করিয়েও জমি লিখে নেয়া যায়না, জমি হস্তান্তরের সব দলিল রেজিস্ট্রী করতে হয় আর রেজিস্ট্রার সাহেব কে জমি বিক্রি করছে তাকে বা তার আমমোক্তার কে নিজ চোখে না দেখে রেজিস্ট্রীর অনুমতি দেন না, সেই সাথে আছে ছবি, টিপ সই, ‘সহী’ টিন নাম্বার দেয়া সহ অনেক অনেক ঝক্কি। এমনকি কমিশনে রেজিস্ট্রী হলেও ছবি, টিপসই, টিন নাম্বার ইত্যাদি লাগবে। আপনাকে কোনভাবে জোর করে সব লিখিয়ে নিলেও  আপনি কোর্টে সেই দলিল বাতিলের মামলা করতে পারবেন, যদিও আপনাকে যে জোর করে দলিনে সাইন করিয়ে নিয়েছে সেটা প্রমান করতে হবে।

 স্ত্রীকে দেয়া উপহারঃ বিয়ের পর স্ত্রীকে যা উপহার দিবেন তা তারই সম্পত্তি, কাজেই তা আপনি আর কোন আইনী পরিস্থিতিতেই ফেরত নিতে পারেন না।

ধন্যবাদ

© KWH

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *