বিবাহ বিচ্ছেদঃ মুসলিম তালাক।

তালাক নিয়ে আমাদের সমাজে, এমনকি আইনজীবীদের মাঝেও বেশ কিছু ভ্রান্ত ধারনা প্রচলিত আছে, এই লেখায় মুসলিম তালাক বিষয়ে বাংলাদেশের আইন এবং  সমাজে বহুল প্রচলিত ভ্রান্ত বিশ্বাস সমূহ নিয়ে আলোচনা করা হবে।

প্রথমেই জেনে রাখা ভাল মুসলিম বিয়ে ‘জন্ম-জন্মান্তরের বাধন’ টাইপ কিছু নয়, এটা জাস্ট একটা চুক্তি, আর অন্য সব চুক্তির মত এটাকেও ক্যান্সেল বা অবসায়ন করা যায়।

তালাক নিয়ে বাংলাদেশী মহিলাদের মধ্যে প্রধানতঃ পাচটি ভ্রান্ত ধারনা প্রচলিত আছে, সেগুলি নিম্নরূপ_

১) মুখে তালাক বললেই তালাক হয়ে যায়, তিন তালাক বললে তিন তালাকই হয়ে যায়।

২) স্ত্রী তালাকের নোটিশ রিসিভ না করলে তালাক হয়না।

৩) স্বামী তালাক দিতে চাইলে স্ত্রীর সম্মতি লাগে।

৪) তালাকের নোটিশে স্ত্রী সাইন না করলে তালাক হবেনা।

৫) স্ত্রী নিজে থেকে তালাক দিলে দেনমোহর পায়না বা আংশিক পায়।

আসুন আমরা উপরোক্ত ভ্রান্ত ধারনাগুলি এক এক করে নিরসন করি।

প্রথমতঃ বাংলাদেশের আইনে মুখে ‘তালাক’ উচ্চারন করলেই তালাক হয়ে যায়না, তা সেটা যতজনের সামনে বা যত জোরে চিৎকার করেই বলা হোক না কেন। বাংলাদেশে তালাক প্রদানের সুনির্দিষ্ট কিছু আইন আছে (নিচে আলোচনা করা হল), সেভাবে না দিলে বাংলাদেশে তালাক কার্য্যকর হবেনা। যেখানে মুখে বললে এক তালাকই কার্য্যকর হয়না সেখানে তিন তালাক বললে তিন তালাক কার্য্যকর হওয়ার দাবীটা নেহায়াতই অবান্তর।

দ্বিতীয়তঃ  স্বামী যদি প্রযোজ্য আইন মোতাবেক সহী-শুদ্ধ ভাবে স্ত্রীকে তালাকের নোটিস পাঠিয়ে দিয়ে থাকে, তাহলে স্ত্রী সেটা রিসিভ করলো কী করলো না, তালাকে সম্মতি দিল কী দিলনা, কোথাও সাইন করলো কী করলো না, তাতে কিছুই যায় আসেনা। স্বামী সেই তালাক প্রত্যাহার না করে নিলে সেই তালাক কার্য্যকর হবেই হবে।

তৃতীয়তঃ আমাদের সমাজের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বহুল প্রচলিত ধারনা হচ্ছে যে স্ত্রী নিজে থেকে তালাক দিলে দেনমোহর পায়না বা আংশিক পায়, এটা একটি সম্পূর্ন ভুল ধারনা, স্ত্রী নিজে থেকে তালাক দিলেও সম্পূর্ন দেনমোহর পাবে। ‘মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯’ সালের ৫ ধারায় এটি পরিস্কার করে বলা আছে_ “দেনমোহরের অধিকার খর্ব করবে নাঃ অত্র আইনের বর্নিত কোন কিছু মুসলিম আইন অনুসারে বিবাহিতা কোন মহিলার প্রাপ্য দেনমোহর অথবা উহার কোন অংশের অধিকার তার বিবাহ বিচ্ছেদ কতৃক প্রভাবিত হইবে না।”


তালাকের প্রক্রিয়াঃ

এখন প্রশ্ন হচ্ছে তালাক দেয়া হয় কিভাবে, পুরুষদের জন্য সেটা খুবই সহজ একটা কাজ, তারা তালাক উচ্চারনের পরেই তালাকের একটি নোটিশ স্ত্রীর বর্তমান বাসস্থানের জন্য প্রযোজ্য চেয়ারম্যান (ইউনিয়ন/পৌরসভা) বা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের মেয়র বা প্রশাসককে পাঠাবেন এবং একই সাথে স্ত্রীকে তার একটি কপি পাঠাবেন।

কিভাবে এই কপি পাঠাতে হবে তার সুনির্দিষ্ট কোন পদ্ধতির কথা বলা হয়নি, টেকনিক্যালি এই নোটিশ হাতে হাতেও দেয়া যায় (রিসিভ সাইন দিলেই বোঝা যাবে তারা গ্রহন করেছেন), তবে যেহেতু এটা বাংলাদেশ, পরে প্রমানের জন্য সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে তালাকের নোটিশ সরকারী রেজিস্ট্রী (এডি সহ) চিঠির মাধ্যমে পাঠানো, তখন হাতে কলমে প্রমান থাকবে কবে পাঠানো হয়েছিল এবং যার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল তিনি রিসিভ করেছেন নাকি করেননি। স্বামী যদি তালাক প্রত্যাহার না করে থাকেন, চেয়ারম্যান/মেয়রকে নোটিশ পাঠানোর তারিখের ৯০ (নব্বই) দিন পর তালাক কার্য্যকর হয়ে যাবে।

মেয়র বা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে তালাকের নোটিশ পাঠানোর পর প্রযোজ্য আইন অনুসারে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মিটমাটের জন্য সেই অফিস হতে স্বামী এবং স্ত্রীকে সালিশে ডাকার কথা, তবে বাস্তবে দেখা যায় যে সেই অফিস অনেক সময় এমন কোন নোটিশ পাঠায় না আর পাঠালেও তাতে হাজিরা দেয়া বাধ্যতামূলক কিছু না, সালিশে না গেলেও কিছুই হবেনা।

মেয়েদের জন্য অবশ্য তালাক দেয়াটা ঠিক ততখানি সহজ নয়। প্রথমত দেখতে হয় কাবিনের ১৮ নং কলামে তাদের তালাকের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে কিনা, আর দেয়া থাকলে সেটা কোন গ্রাউন্ডে। কাবিনে ক্ষমতা দেয়া থাকলে তারা তালাকের নোটিশে সেই গ্রাউন্ড দেখিয়ে ঠিক পুরুষদের মত করেই নোটিশ সার্ভ করে তালাক দিতে পারবেন।

তবে সমস্যাটা দেখা দেয় কাবিনে মেয়েদের তালাকের ক্ষমতা দেয়া না থাকলে। বেশ কিছুকাল ধরে কাজীরা যদিও নিজ থেকেই কাবিনে মেয়েদের তালাকের ক্ষমতা লিখে আসছেন (তারা বলেন দেয়ার জন্য সরকারের নির্দেশনা আছে), তবে প্রকৃতপক্ষে কাবিনে মেয়েদের তালাকের ক্ষমতা দেয়াটা স্বামীদের জন্য বাধ্যতামূলক কিছু নয়, অর্থাৎ কোন বর যদি গো ধরেন যে স্ত্রীকে এই ক্ষমতা দেবেন না, তখন কাজীর আর করার কিছু থাকেনা।


কাবিনে ক্ষমতা দেয়া না থাকলেও মেয়েরা স্বামীকে তালাক দিতে পারেন, তবে সেটা করতে হবে কোর্টে কেসের মাধ্যমে। নিম্নবর্নিত যে কোন এক বা একাধিক কারনে মেয়েরা কোর্টের কাছে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারেন।

১) চার বছর ধরে স্বামী নিখোজ থাকলে (উল্লেখ থাকে যে এই গ্রাউন্ডে কোর্ট বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি দিলেও ৬ মাস পর্যন্ত তা কার্য্যকর হবেনা, স্বামী যদি এই সময়ের মধ্যে নিজে বা তার কোন প্রতিনিধির মাধ্যমে আদালতে সন্তোষজনক ভাবে বোঝাতে পারে যে সে দাম্পত্য দ্বায়িত্ব পালনে প্রস্তুত আছে, তবে আদালত ডিক্তি নাকচ করবেন)।

২) দুই বৎসর কাল যাবত স্বামী ভরনপোষন প্রদানে অবহেলা করলে বা ব্যর্থ হলে।

২ক) ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের বিধান অমান্য করে স্বামী অতিরিক্ত স্ত্রী গ্রহন করলে।

৩) সাত বৎসর বা ততোধিক সময়ের জন্য স্বামী কারাদন্ডে দন্ডিত হলে (উল্লেখ থাকে যে কারাদন্ড চূরান্ত না হলে এই ডিক্রি দেয়া হবেনা)।

৪) যুক্তিসঙ্গত কারন ছাড়া স্বামী তিন বৎসর কাল যাবত তার বৈবাহিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে।

৫) বিবাহের সময় স্বামী পুরুষত্বহীন ছিল, এখনো আছে সেই কারনে (ডিক্রি দেবার আগে স্বামী আদালতে আবেদন করলে আদালত স্বামীকে আদেশের ১ বছরের মধ্যে সুস্থ হবার প্রমান দেখাতে বলতে পারেন, স্বামী এই সময় সীমার মধ্যে আদালতে নিজ সুস্থ্যতার ব্যাপারে সন্তুষ্ট করতে পারলে আদালত বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি দেবেন না)।

৬) দুই বৎসর কাল যাবত স্বামী পাগল, বা কুষ্ঠ/।যৌন রোগে আক্রান্ত থাকলে

৭) মেয়ে ১৬ বছর হবার আগেই বাবা বা অন্য কোন অভিভাবক বিয়ে দিয়ে দিয়েছে এবং ১৮ বছর হবার আগেই মেয়ে সেই বিয়ে নাকচ করেছে এমন পরিস্থিতিতে (তবে এখানে একটা প্যাচ আছে, বিয়ের পর স্বামীর সাথে যৌন মিলন হয়ে থাকলে ঠিক এই গ্রাউণ্ডে বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারবে না, অন্য কোন গ্রাউণ্ডে চাইতে হবে)।

৮) স্বামী স্ত্রীর সাথে নিষ্ঠুর আচরন করলে (এটা আসলে অনেক ব্যাপক, এর মধ্যে আছে স্বভাবগত আক্রমন ও নিষ্ঠুর আচরন, সেটাকে ঠিক শারিরীক নির্যাতন বলা না গেলেও, খারাপ চরিত্রের নারীদের সাথে থাকা বা ঘৃন্য জীবন যাপন করা, স্ত্রীকে নৈতিকতাহীন জীবন যাপনে বাধ্য করার চেষ্টা করা, স্ত্রীর সম্পত্তি হস্তান্তর করা বা উক্ত সম্পত্তিতে স্ত্রীর আইন সঙ্গত অধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করা, স্ত্রীর ধর্ম বিশ্বাস বা ধর্ম চর্চায় বাধা দেয়া, একাধিক স্ত্রী থাকলে কুরানের নির্দেশ অনুযায়ী ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার না করা।

৯) মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহ বিচ্ছেদের নিমিত্তে বৈধ বলে স্বীকৃত অপর কোন কারন।  

বুঝতেই পারছেন কাবিনে তালাকের ক্ষমতা দেয়া না থাকলেও বাংলাদেশের আইনে কোর্টের মাধ্যমে মেয়েদের বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি পাওয়াটা মোটেই কঠিন কিছু নয়, তবে পয়েন্ট টু বি নোটেড, বিচ্ছেদের কারন হিসেবে যা বলা হবে, সেটা প্রমান করার দায়িত্ব আবার মেয়ের উপর থাকবে, যদিও কোর্ট মেয়েদের যথেষ্ট ছাড় দেয়, তারপরেও এমন কোন অভিযোগ করা ঠিক হবেনা যা মোটের উপর অবিশ্বাস্য বলে মনে হবে বা প্রমান করা যাবেনা।

এছাড়াও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে স্বামী-স্ত্রী তালাক কার্য্যকর করতে পারেন।


এবার আসি তালাক নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে যেসব ভুল ধারনা প্রচলিত আছে তা নিয়ে, তালাক নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে যেসব ভুল ধারনা আছে সেসব হচ্ছে_

১) তালাকের নোটিশ তিন বার পাঠাতে হয়।

২) সালিশের চিঠি না আসলে তালাক কার্য্যকর হয়না।

৩) উকিলের মাধ্যমে তালাকের নোটিশ পাঠাতে হয়।

৪) তালাক হলে হিলা বিয়ে ছাড়া আবার তারা বিয়ে করতে পারেনা।

উপরের প্রত্যেকটি ভুল ধারনা, এবং অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে অনেক উকিল এই ভুল ধারনাগুলি পোষন করেন।

প্রথমতঃ তালাকের নোটিশ তিন বার পাঠাতে হবে এটা আইনের কোথাও বলা হয়নি, চাওয়াও হয়নি, কেবল একবার পাঠানোর নিয়ম, তবে উকিল সাহেব ফী বেশী খাবেন সেই হিসাবে অবশ্য তিন বার তালাকের নোটিশ পাঠাতে চাওয়াকে ব্যাখ্যা করা যায়।

দ্বিতীয়তঃ সালিশের চিঠি পাওয়া না পাওয়ার সাথে তালাক কার্য্যকর হবার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই, স্বামী যদি প্রমান করতে পারে যে সে নোটিশ মেয়র বা চেয়ারম্যানকে পাঠিয়েছিল, সেটাই যথেষ্ট, মেয়র বা চেয়ারম্যান অফিসের চিঠি পাঠানোর ব্যার্থতার বা অবহেলার দ্বায়ভার স্বামীর নয়।

তৃতীয়তঃ এমন কোন কথা নেই যে উকিল বা কাজীর মাধ্যমেই নোটিশ পাঠাতে হবে, টেকনিক্যালি স্পিকিং, কেউ নিজে পাঠালেও তা আইনে গ্রহনযোগ্য, তবে একটা কিন্তু আছে, আইন সম্পর্কে যদি আপনার নিখুত এবং কার্য্যকর ধারনা না থাকে, নিজে নিজে নোটিশ পাঠাতে যাবেন না, পরে আইনী জটিলতায় পড়তে পারেন। আর বিদেশ থেকে কখনো তালাক দিতে চাইলে কোন বিশ্বাসযোগ্য উকিলের মাধ্যমেই সেটা করাটা নিরাপদ।

চতুর্থতঃ একবার তালাক হয়ে গেলে সেই মেয়েকে তার আগের স্বামী আবার বিয়ে করতে গেলে মেয়েকে ‘হিলা বিয়ে’ দিতে হবে, এটি একটি সম্পূর্ন ভুল ধারনা কেবলমাত্র এক বিরল ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য, স্বামী স্ত্রীকে বাংলাদেশের আইন অনুসারে ৯০ দিনের নোটিশে তালাক দিয়েছে, আবার বিয়ে করেছে, আবার তালাক, আবার বিয়ে, আবার তালাক, আবার বিয়ে, আবার তালাক, এভাবে করতে করতে যদি এমন হয় যে সে একই লোক একই মেয়েকে ক্রমান্বয়ে তিনবার বিয়ে আর তিন বার তালাক দিয়েছে, তখন সেই মেয়েকে একই লোক চতুর্থ বার বিয়ে করতে চাইলে সেই মেয়ের আগে ‘হিলা’ বিয়ে হতে হবে। আইনে অবশ্য হিলা বিয়ের কথা সরাসরি বলা হয়নি, যে কারনে নিম্নবুদ্ধির অনেকে এটা সরাসরি ধরতে পারেন না, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১, ধারা ৭(৬) এ হিলা বিয়ের কথা (এই আইনের ভাষায় ‘মধ্যবর্তীকালীন বিবাহ’) উল্লেখ করা হয়েছে।


এতক্ষন পর্যন্ত যা পড়লেন সেসবই হচ্ছে আইনের কথা, এবার কিছু বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা করা যাক। তালাক ইস্যুতে বাংলাদেশী পুরুষদের ব্যাপক ক্ষমতা থাকায় অনেক মহিলাই ক্ষুব্ধ হন, কোন কারন দর্শানো ব্যতীতই একজন পুরুষ যে তালাক দিয়ে দিতে পারেন সেটা তারা মেনে নিতে পারেন না, তবে মেনে নিতে না পারলেও এটা বাস্তবতা, স্বামী তালাক দিতে চাইলে স্ত্রী আইনগত ভাবে তা থামাতে পারেন না।

এবার আসি অন্য প্রসঙ্গে, অনেক পুরুষ আছেন যারা তালাক দিতে চান কিন্তু দিতে ভয় পান, তারা নারী ও শিশু কেসের আশংকা করেন, এক্ষেত্রে আমার সাজেশন হবে তালাকের আগে জিডি করে তারপর তালাক দেয়া, জিডি করে রাখলেও নারী শিশু কেসের আসামী করতে পারবে তবে তখন জামিন পাওয়াটা এবং কেস জেতাটা অনেক সহজ হবে। পয়েন্ট টু বি নোটেড, এটা মোবাইল হারানো টাইপ জিডি না, ভবিষ্যতে যে কেস হতে পারে সেটা মাথায় রেখে এটা ড্রাফট করতে হয়, যথেষ্ট জটিল এবং সময় সাপেক্ষ একটি কাজ।

এবার আসি মেয়েদের প্রসঙ্গে, তালাকের ক্ষমতা থাকলেও চট করে তালাক দেয়াটা আপনাদের জন্য সব সময় নিরাপদ নয়, আপনি যদি তালাক দেন আর স্বামী বা শ্বশুর বাড়ীর লোকেরা যদি শয়তান টাইপের হয়, তাহলে কেস দিতে পারে যে আপনি তাদের এত এত স্বর্নালংকার হাতিয়ে নিয়ে গেছেন, তখন আপনাদের হবে শ্যাম রাখি না কূল রাখি অবস্থা! এ ক্ষেত্রেও আমি জিডি করে তারপর ঘর হতে বের হবার পরামর্শ দেব।

মেয়েরা তালাকের ক্ষেত্রে দ্বিধা করেন কয়েকটি দিক ভেবে, প্রথমত, ভরন পোষণের কি হবে এবং দ্বিতীয়তঃ বাচ্চা নিয়ে যাবে এই আশংকা করে, ভরন পোষণের ইস্যুতে ফ্যাক্ট হচ্ছে তালাক নোটিশ প্রদানের পরবর্তী ৯০ দিন স্বামীরা স্ত্রীর ভরনপোষন করতে বাধ্য, এরপর আর নয়।

বাচ্চাদের অভিভাবকত্ব ইস্যু নিয়ে আরেক সময় লিখবো তবে সংক্ষেপে এটুকু বলে রাখি যে পুরুষেরা সচরাচর যা দাবী করে_ একটা নির্দিষ্ট বয়স হলেই ছেলে বাচ্চা নিয়ে যাবে, এটা ঠিক সত্য নয়, কোর্ট আসলে দেখবে বাচ্চারা কার কাছে ভাল থাকবে, তার কাছেই দেবে, আর কোর্টের সাধারন প্রবনতা থাকে বাচ্চাকে মায়েদের কাছে রাখা। জেনে রাখা ভাল, তালাকের পর বাবারা সাবেক স্ত্রীকে ৯০ দিনের বেশী ভরনপোষন দিতে বাধ্য না থাকলেও সন্তানের ভরনপোষন দিতে কিন্তু ঠিকই বাধ্য, এ প্রসঙ্গে পরে কোন সময় ইন শা আল্লাহ বিস্তারিত লিখবো।

আশা করি আমার এই লেখাটি আপনাদের কাজে লাগবে।

শুভ কামনা।

কাজী ওয়াসীমুল হক

এডভোকেট

সুপ্রীম কোর্ট অব বাংলাদেশ।

হেড

ওয়াসীমুল হক এন্ড এসোসিয়েটস।

৩-৯-২০১৮ ইং।

4 thoughts on “বিবাহ বিচ্ছেদঃ মুসলিম তালাক।”

  1. শিরোনাম ছিল মুসলিম তালাক, বর্ণনা করলেন বাংলাদেশের আইনের তালাক। ইসলাম অনুযায়ী তালাক মুখে বললেই তালাক হয়ে যায়, প্রসিডিউর যেগুলো আপনি বললেন, সেগুলো ম্যান মেইড ল। ইসলাম তো এগুলো বলে না।

  2. চমৎকার উপস্থাপন। হিন্দুদের বিবাহ বিচ্ছেদ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাই।

  3. নিবন্ধটি পড়ে খুবই ভাল লাগলো স্যার। তবে একটা পরামর্শ দিলে ভাল হতো। যেমন ধরুন কোন পক্ষই তালাকের নোটিশ পায়নি। স্ত্রী স্বামীর বাড়িতেই অবস্থান করা অবস্থায় ৯০ দিন পার হলো । এমন সময় যৌতুকের দাবিতে মারপিটের ঘটনায় উক্ত স্ত্রী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলো। পুলিশ অভিযোগপত্রও দাখিল করলো। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে স্ত্রী কি বিচার পাবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *